প্রিন্ট এর তারিখঃ May 31, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Dec 31, 2025
স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন

দিবাকর ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে । ৩১ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল পাঁচটার কিছু আগে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে দলে দলে আসেন মানুষ। যা কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বেলা ৩টা বেজে ৩ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। বেলা ৩টা বেজে ৫ মিনিটে জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজার পর সংসদ ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়।
দাফনের প্রক্রিয়া চলার সময় তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শামিলা রহমান, তাঁর বড় মেয়ে জাহিয়া রহমান, ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির নেতা–কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাঁড়িয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও অন্যরা জানাজায় অংশ নেন।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজাস্থলে উপস্থিত বিপুল মানুষের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দোয়া করবেন। আল্লাহতায়ালা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।’
এছাড়া জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আসেন। তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ভারতের শোকবার্তা দেন সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মোবাইলে তাঁকে জানান, ‘আম্মা আর নেই।’
আপসহীন খালেদা জিয়া
স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের অধীন ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা অংশ নিলেও খালেদা জিয়া তাতে সায় দেননি। তিনি সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতন ঘটে আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন তাঁকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেলেও আপস করেননি। যার কারণে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন’ নেত্রীর উপাধি পান।
গুলশানে শোকবই
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৩০ ডিসেম্বর খোলা শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা স্বাক্ষর করেন। ৩১ ডিসেম্বর দুপুরের পর থেকেই একে একে আসেন বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, ইতালি, সৌদি আরব ও ফিলিপাইনের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে স্বাক্ষর করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তারা।
শোকবই খোলার পর থেকে দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর অব্যাহত আছে। আগামী কয়েক দিন শোকবই খোলা থাকবে।
all rights reserved 2025 @ dailydibakar